বিশ্ববিখ্যাত বিনিয়োগকারী ও ধনকুবের ওয়ারেন বাফেট তার বিশাল সম্পত্তি নিয়ে সব সময়ই স্পষ্ট পরিকল্পনা করে এসেছেন। ৯৩ বছর বয়সী এই "ওমাহার ওরাকল" তার ১৫ হাজার কোটি ডলারের (১.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার) সম্পত্তি মৃত্যুর পর কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তা নিয়ে সম্প্রতি নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ওয়ারেন বাফেট আগে থেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন যে তার সম্পত্তির ৯৯ শতাংশ দান করা হবে জনহিতকর কাজে। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, অতিরিক্ত সম্পদ সমাজকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। আমি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই নীতিতে অটল থাকব।”
দ্য গিভিং প্লেজ ও বাফেটের দৃষ্টিভঙ্গি
বিল গেটস ও মেলিন্ডা ফরাস গেটসের সঙ্গে মিলে বাফেট ২০১০ সালে শুরু করেছিলেন দ্য গিভিং প্লেজ। এর লক্ষ্য হলো পৃথিবীর শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের তাদের সম্পদের বেশির ভাগ অংশ দান করতে উদ্বুদ্ধ করা। নিজে এই উদ্যোগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হওয়ায়, বাফেট তার জীবনভর অর্জিত সম্পত্তি জনহিতকর কাজে উৎসর্গ করার বিষয়টি বারবার তুলে ধরেছেন।
তিনি তার সন্তানদের ব্যাপারে বলেন, “আমার সন্তানদের যা দরকার, তা তারা পেয়েছে। কিন্তু তাদের বিশাল পরিমাণ সম্পদ দিয়ে আমি তাদের ভবিষ্যৎকে ভারী করতে চাই না। আমি মনে করি, তাদের নিজেদের যোগ্যতায় জীবন গড়ার সুযোগ পাওয়া উচিত।”
ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সম্পদ বিতরণ
বাফেট জানিয়েছেন, তার দানের বড় অংশ বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনসহ অন্যান্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। এই ফাউন্ডেশনগুলো স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে কাজ করে।
বাফেটের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পদের ওপর তার গভীর দায়বদ্ধতা এবং মানবতার প্রতি তার ভালোবাসাকে প্রতিফলিত করে। তিনি বিশ্বাস করেন, সমাজে যে সুযোগ-সুবিধা তাকে এই অসীম ধন-সম্পদ উপার্জন করতে সাহায্য করেছে, সেই সমাজের প্রতি তার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়াই সঠিক।
এই সিদ্ধান্ত বাফেটকে কেবল একজন সফল বিনিয়োগকারীই নয়, বরং একজন মহান মানবতাবাদী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ধনী ব্যক্তিদের জন্যও একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।

0 Comments